প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:১৯ এএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৩১ এএম
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় পদক্ষেপ নিন
মাছে-ভাতে বাঙালি।
ভাতের সঙ্গে মাছ আমাদের ঐতিহ্য। এখন আগের মতো নদী-নালায় মাছের দেখা পাওয়া যায় না। এর
প্রধান কারণ অবৈধ জাল ব্যবহার। দেশের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট
জালের পাশাপাশি বেড়েছে ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহার। এ জালে মাছের পোনাসহ মা মাছ নির্বিচারে
ধরা পড়ছে, যা দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। শুধু
মাছ নয়, কাঁকড়া, কচ্ছপ, শামুক, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও এ ফাঁদে ধ্বংস হচ্ছে।
চায়না দুয়ারি জালের কারণে জোয়ার-ভাটার প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। দেশে মাছ ধরার জালের
ফাঁসের অনুমোদিত পরিমাপ সাড়ে ৫ সেন্টিমিটার। কোনো জালের ফাঁস এর চেয়ে কম হলে তা আইন
অনুযায়ী নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ জালের তালিকায় চায়না দুয়ারির নাম না থাকলেও বিদ্যমান আইন
অনুযায়ী এটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। চায়না দুয়ারি জালে বেশি মাছ ধরা যায় বলে অসাধু শিকারিরা
এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে, যার ফলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন ও জীবনচক্র মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত
হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারির মতো জালের ব্যবহার বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর
উদ্যোগ প্রয়োজন।
দেশের মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দেশি মাছ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
এস আলী দুর্জয়
শিক্ষার্থী, রাজশাহী
ভাষার মাধুর্যতা যেন না হারায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
খুদেবার্তা আদান-প্রদানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বা চর্চিত ভাষা টেক্সটস্পিক নামে পরিচিত।
ব্যাকরণিক নিয়মবিহীন ছোট ছোট বাক্যে, কাটছাঁটকৃত শব্দে বিন্যস্ত এসব ভাষাকে বলা হচ্ছে
‘টেক্সটস্পিক’। সময় বাঁচানোর অভিনব কৌশল অবলম্বন করে কিংবা ট্রেন্ডে গা ভাসাতে গিয়ে
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, লেখক, সাহিত্যিক ছোট-বড় সবাই এ ভাষা
চর্চা করছে। অথচ এই রীতির নেই কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন, নেই শব্দগুলোর শ্রুতিমধুর
ভাব।
টেক্সটস্পিক অতিমাত্রায় চর্চার মাধ্যমে আমরা কোনো একটি শব্দকে সংক্ষিপ্ত করতে করতে সেই শব্দের প্রকৃত রূপটিকেই ভুলতে বসেছি। ব্যাকরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া শব্দ প্রয়োগে মেতে উঠেছে। কখনও কখনও মনে হয় যেÑ যত বেশি সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহারে পারদর্শী, তার মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া তত বেশি।আবার আরেকটা বিষয় স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত, ব্যক্তিভেদে লেখার ভঙ্গিও আলাদা। যোগাযোগের প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনেই হোক ইচ্ছে হলেই কোনো আনুষ্ঠানিকতার বালাই ছাড়া বাংলা-ইংরেজি (যা বাংলিশ নামে পরিচিত) শব্দ মিশিয়ে টেক্সট করে মনের ভাব প্রকাশ করা যাচ্ছে। এই ভাষা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অবাধে বিচরণ করছে সাহিত্যের অঙ্গনেও। নিজস্ব সাজে সজ্জিত এই ভাষার নেই কোনো মাধুর্যতা কিংবা ভাবগাম্ভীর্যতা। তাই এটি আনুষ্ঠানিক জায়গায় ব্যবহার অনুপযোগী।বর্তমান সময়ে যোগাযোগের এই আবেদনহীন মাধ্যমটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অসুস্থ রীতির কুফল নানা পদে মোকাবিলা করতে হয়। অতিরিক্ত এই রীতি চর্চার ফলে সঠিক শব্দ অনেকেই ভুলতে বসেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝেও এই ভাষার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে ভাষার ভঙ্গুরতা সৃষ্টি হচ্ছে। সবার উচিত শব্দগুলো না ভেঙে বরাবর লেখা, প্রত্যেক ভাষার শব্দের যাতে মাধুর্যতা না হারায়। ভাষার মাধুর্যতা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।
শারমিন উদ্দিন
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান
বিভাগ
ইডেন মহিলা কলেজ